Breaking




Saturday, 21 March 2026

মার্চেই মিলবে বকেয়া DA-র প্রথম কিস্তি, নবান্নে জোর প্রস্তুতি

ডিএ ইস্যুতে বড় আপডেট—মার্চেই প্রথম কিস্তি দেওয়ার পথে রাজ্য সরকার

DA ইস্যুতে বড় আপডেট—মার্চেই প্রথম কিস্তি দেওয়ার পথে রাজ্য সরকার
ডিএ ইস্যুতে বড় আপডেট—মার্চেই প্রথম কিস্তি দেওয়ার পথে রাজ্য সরকার
রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় সুখবর আসতে চলেছে। দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া থাকা ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে অবশেষে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ঘোষণার পরেই নবান্নে তৎপরতা বেড়েছে এবং শুরু হয়েছে বকেয়া ডিএ-র বিস্তারিত হিসাব কষার কাজ। সূত্রের খবর, মার্চ মাসের মধ্যেই পুরনো বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি কর্মীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ফলে বহুদিনের অপেক্ষার পর এই আর্থিক সুবিধা পেতে চলেছেন রাজ্যের লক্ষাধিক কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা, যা তাঁদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।

মার্চেই মিলছে বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি, নবান্নে জোর প্রস্তুতি— কর্মীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর

রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের বহুদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে অবশেষে বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণার পর থেকেই নবান্নে তৎপরতা বেড়েছে, এবং দ্রুততার সঙ্গে শুরু হয়েছে হিসাবনিকাশের কাজ। জানা যাচ্ছে, চলতি মার্চ মাস থেকেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে চায় সরকার, এমনকি এ সংক্রান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তিও ইতিমধ্যেই জারি হয়েছে।

অর্থ দফতরের সূত্রে খবর, প্রথম পর্যায়ে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত জমে থাকা বকেয়া ডিএ মেটানো হবে। এই সময়ের মোট বকেয়ার অর্ধেক মার্চ মাসেই কর্মীদের অ্যাকাউন্টে দেওয়া হবে এবং বাকি অংশ পুজোর আগে সেপ্টেম্বর মাসে মিটিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ফলে মার্চ মাসেই অনেক কর্মচারীর হাতে বড় অঙ্কের টাকা আসতে চলেছে, যা তাঁদের আর্থিক স্বস্তি বাড়াবে।

হিসাব অনুযায়ী, পঞ্চম বেতন কমিশনের ‘স্কেল ১’-এর আওতায় থাকা কর্মীদের বকেয়া ডিএ নির্ধারণ করা হচ্ছে তাঁদের মূল বেতন ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের ভিত্তিতে। উদাহরণ হিসেবে, যদি কোনও কর্মীর বেসিক বেতন প্রায় ১০,০০০ টাকা ধরা হয়, তাহলে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে তাঁর মোট বকেয়া প্রায় ৪ লক্ষ ৫৭ হাজার টাকার কাছাকাছি দাঁড়ায়। এর মধ্যে অর্ধেক অর্থাৎ প্রায় ২ লক্ষ ২৮ হাজার টাকার কিছু বেশি মার্চ মাসেই হাতে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একইভাবে, যাঁদের বেসিক বেতন আরও বেশি— যেমন ১২,০০০ বা ১৫,০০০ টাকা— তাঁদের ক্ষেত্রে বকেয়ার অঙ্ক আরও বৃদ্ধি পেয়ে কয়েক লক্ষ টাকায় পৌঁছে যেতে পারে, ফলে প্রত্যেকের প্রাপ্য অর্থ তাঁর বেতনের উপর নির্ভর করে ভিন্ন হবে।

ডিএ নির্ধারণের ক্ষেত্রে কর্মীদের বেসিক বেতনই প্রধান ভূমিকা পালন করে। কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র পার্থক্য ধরে দীর্ঘ সময়ের হিসাব কষে এই বকেয়া নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০০৮ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত সময়কালের ব্যবধান হিসাবের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে বলে জানা গেছে, যার ফলে কর্মীদের প্রাপ্য অঙ্ক যথেষ্ট বড় হয়েছে।

পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হচ্ছে ইন্টিগ্রেটেড ফিনান্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (IFMS)-এর মাধ্যমে। এই ডিজিটাল ব্যবস্থায় প্রতিটি কর্মীর বেতন, ইনক্রিমেন্ট ও অন্যান্য তথ্য নথিভুক্ত থাকে, ফলে হিসাব করা যেমন সহজ হয়েছে, তেমনই দ্রুত অর্থ পাঠানোও সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে ২০১৬ সালের পর থেকে তথ্য সহজলভ্য হওয়ায় সেই সময় থেকেই বকেয়া মেটানোর কাজ শুরু করা হয়েছে।

নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির টাকা জমা করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ট্রেজারি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি বেতন বা পেনশন অ্যাকাউন্টে এই অর্থ পাঠানো হবে। বাকি বকেয়া পরবর্তী ধাপে মেটানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে বকেয়া ডিএ পাওয়ার পথে বড় পদক্ষেপ নেওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন রাজ্যের লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা। এখন সবার নজর মার্চ মাসের সেই প্রতীক্ষিত প্রথম কিস্তির দিকেই।

বকেয়া ডিএ (DA) ২০২৬ – সারসংক্ষেপ

কবে থেকে বকেয়া ডিএ দেওয়া শুরু হবে?
উত্তর: রাজ্য সরকার চলতি মার্চ মাস থেকেই বকেয়া ডিএ দেওয়া শুরু করতে চায় এবং ৩১ মার্চের মধ্যে প্রথম কিস্তি দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

কেন হঠাৎ ডিএ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে এবং মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কোন সময়ের বকেয়া ডিএ প্রথমে মেটানো হবে?
উত্তর: ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত জমে থাকা বকেয়া ডিএ প্রথম ধাপে মেটানো হবে।

পুরো বকেয়া একসঙ্গে দেওয়া হবে কি?
উত্তর: না, প্রথমে মোট বকেয়ার অর্ধেক মার্চে দেওয়া হবে এবং বাকি অর্ধেক সেপ্টেম্বর (পুজোর আগে) দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

কত টাকা পাওয়া যেতে পারে?
উত্তর: এটি কর্মীর বেসিক বেতনের উপর নির্ভর করে। যেমন—
  • ৭,০০০ টাকা বেসিক হলে প্রায় ১.৪৯ লক্ষ টাকা বকেয়া, তার অর্ধেক মার্চে
  • ১০,০০০ টাকা বেসিক হলে প্রায় ৪.৫৭ লক্ষ টাকা
  • ১৫,০০০ টাকা বেসিক হলে প্রায় ৬.৮৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে

ডিএ কীভাবে হিসাব করা হচ্ছে?
উত্তর: কর্মীর বেসিক বেতন এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র পার্থক্য ধরে দীর্ঘ সময়ের হিসাব কষে বকেয়া নির্ধারণ করা হচ্ছে।

টাকা কীভাবে দেওয়া হবে?
উত্তর: ট্রেজারি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে।

কোন সিস্টেমের মাধ্যমে এই হিসাব করা হচ্ছে?
উত্তর: ইন্টিগ্রেটেড ফিনান্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (IFMS)-এর মাধ্যমে সমস্ত হিসাব করা হচ্ছে।

কেন ২০১৬ সাল থেকে হিসাব শুরু হচ্ছে?
উত্তর: ২০১৬ সাল থেকে IFMS-এ তথ্য ডিজিটালি সংরক্ষিত থাকায় সেই সময়ের হিসাব করা সহজ ও নির্ভুল।

বাকি বকেয়া কবে দেওয়া হবে?
উত্তর: বাকি বকেয়া ধাপে ধাপে পরবর্তীতে মেটানো হবে, যার বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

আরও পড়ুন- 

আরও পড়ুন- 

আরও পড়ুন- 

No comments:

Post a Comment