সেমিস্টার সিস্টেমে উচ্চ মাধ্যমিক 2026: বেস্ট অফ ফাইভ নির্ধারণের নতুন নিয়ম
উচ্চ মাধ্যমিক ২০২৬ থেকে সেমিস্টার সিস্টেম চালু হওয়ায় মূল্যায়ন পদ্ধতিতেও এসেছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। বিশেষ করে “বেস্ট অফ ফাইভ” কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, তা নিয়ে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে রয়েছে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল। West Bengal Council of Higher Secondary Education–এর নতুন নিয়ম অনুযায়ী কোন কোন সেমিস্টারের নম্বর গণনা হবে, প্র্যাকটিক্যাল ও থিওরি কীভাবে যুক্ত হবে এবং সর্বোচ্চ প্রাপ্ত পাঁচটি বিষয় কীভাবে নির্বাচন করা হবে—এসব বিষয় পরিষ্কারভাবে জানা অত্যন্ত জরুরি। এই পোস্টে আমরা সহজ ভাষায় উচ্চ মাধ্যমিক ২০২৬-এর সেমিস্টার সিস্টেমে বেস্ট অফ ফাইভ নির্ধারণের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া তুলে ধরব।
স্নেহের ছাত্রছাত্রীরা, তোমরা যারা ২০২৪-২৬ শিক্ষা বর্ষে উচ্চ মাধ্যমিক দিলে তোমরা নতুন সিলেবাসে পরীক্ষা দিলে যেটা তোমাদের একটা অন্যরকম অভিজ্ঞতার সাক্ষী। তোমাদের অনেকের কাছে এই সেমিস্টার সিস্টেমটি হয়তো অনেকটা আবছা হয়ে আছে আবার অনেকের কাছে পুরোটাই অস্পষ্ট। তাই তোমাদের কাছে আমরা উচ্চ মাধ্যমিক সেমিস্টার সিস্টেমের সমস্ত তথ্য গুলি খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরলাম। যেখানে আমরা পাশ নম্বর এবং ফোর্থ সাবজেক্ট কীভাবে নির্ধারণ করা হবে তার তথ্য আলোচনা করা আছে।
কত নম্বর পেলে পাস?
WBCHSE এর তথ্য অনুযায়ী উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাটি দুটি সেমিস্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪০+৪০ নম্বরের। যার মধ্যে ১০+১০ করে প্রজেক্ট এবং ১৫+১৫ করে প্র্যাকটিক্যাল (যে যে বিষয়ে আছে)
যেহেতু পরীক্ষাটি দুবার ধরে অনুষ্ঠিত হয়েছে সেহেতু তোমাদের আলাদা আলাদা ভাবে পাশ করতে হবে।
❏ যে বিষয়ে প্রজেক্ট আছে – ৪০ নম্বরের পরীক্ষা
❏ যে বিষয়ে প্র্যাকটিক্যাল রয়েছে – ৩৫ নম্বরের পরীক্ষা
পাশ নম্বর -
❏ ৪০ নম্বরের পরীক্ষার ক্ষেত্রে পাশ নম্বর ১২ প্রয়োজন।
❏ ৩৫ নম্বরের পরীক্ষার ক্ষেত্রে পাশ নম্ভর ১০.৫ – ১১ (প্রায় ১১)
“গ্রেস মার্ক”-এর প্রয়োগ -
গ্রেস মার্ক হলো এমন অতিরিক্ত নম্বর, যা কোনো পরীক্ষায় খুব অল্প নম্বরের জন্য ফেল করা ছাত্রছাত্রীদের পাশ করানোর উদ্দেশ্যে বোর্ড বা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ প্রদান করে।
গ্রেস মার্ক কেন দেওয়া হয়?
• অল্প নম্বরের জন্য ফেল এড়াতে
• প্রশ্নপত্র কঠিন হলে
• মূল্যায়নে বিশেষ পরিস্থিতি থাকলে
• বোর্ডের নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী
নতুন সিলেবাসে প্রথম ব্যাচ হিসেবে পরীক্ষায় বসছে পড়ুয়ারা। তাই পরীক্ষার ক্ষেত্রে সহানুভূতির দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। শিক্ষকরা সাধারণত চান না কোনও ছাত্রছাত্রী ফেল করুক। যদি কোনও পরীক্ষার্থী ১০ বা ১১ নম্বর পায় এবং পাস মার্ক থেকে সামান্য পিছিয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে খাতা পুনরায় ভালোভাবে দেখা হতে পারে, যেখানে নম্বর দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
ফোর্থ সাবজেক্ট কীভাবে নির্ধারণ করা হবে?
অনেকের মধ্যে একটা ভুল ধারনা রয়েছে যে কেবলমাত্র চতুর্থ সেমিস্টারের ভিত্তিতে ফোর্থ সাবজেক্ট নির্ধারিত হবে। আসল ঘটনা হচ্ছে তৃতীয়, চতুর্থ এবং প্রজেক্টের নাম্বারের মোট করে ফোর্থ সাবজেক্ট বের করা হবে।
বেস্ট অফ ফাইভ নির্ধারণের পদ্ধতি -
① প্রতিটি বিষয়ে: তৃতীয় সেমিস্টার + চতুর্থ সেমিস্টার + প্রজেক্ট/প্র্যাকটিক্যাল নম্বর যোগ হবে।
② সব বিষয়ের মোট নম্বর বের করা হবে।
③ এরপর সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া ৫টি বিষয় গণনায় ধরা হবে।
দুটি সেমিস্টার পরীক্ষা এবং প্রজেক্ট প্র্যাকটিক্যাল মিলিয়ে ১০০ এর মধ্যে যে বিষয়টির নম্বর সবচেয়ে কম থাকবে, সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফোর্থ সাবজেক্ট হিসেবে গণ্য হবে। তবে মার্কশিটে আলাদা করে কোন কিছু উল্লেখ থাকবে না – শুধুমাত্র টোটাল নম্বরে সেটি দেখা যাবে।
উদাহরণ দিয়ে বোঝা যাক -
ধরা যাক নম্বর এসেছে:
(3rd sem) (4th sem)
•☛ বাংলা – (৩০ + ১০) + (৩০ + ১০) = ৮০
•☛ ইংরেজি – (৩০ + ১০) + (২৫ + ১০) = ৭৫
•☛ ইতিহাস – (৪০ + ১০) + (২৮ + ১০) = ৮৮
•☛ ভূগোল – (২২ + ১৫) + (৩০ + ১৫) = ৮২
•☛ রাষ্ট্রবিজ্ঞান – (৩৫ + ১০) + (২৩ + ১০) = ৭৮
•☛ শিক্ষাবিজ্ঞান – (২৬ + ১০) + (১৯ + ১০) = ৬৫
⚫ এখানে সর্বনিম্ন নম্বর ৬৫ (শিক্ষাবিজ্ঞান) → এটি বাদ যাবে।
• তাহলে Best of Five =
•☛ ৮০ + ৭৫ + ৮৮ + ৮২ + ৭৮ = ৪০৩
•☛ শতাংশ = (৪০৩ ÷ ৫০০) × ১০০ = ৮০.৬%

No comments:
Post a Comment