Breaking




Thursday, 19 February 2026

ভূমিহীন প্রকল্প: কারা পাবেন | কারা পাবেনা | আবেদন পদ্ধতি | আরও অন্যান্য তথ্য

ভূমিহীন প্রকল্পঃ যোগ্যতা, সুবিধা ও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা

ভূমিহীন প্রকল্পঃ যোগ্যতা, সুবিধা ও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা
ভূমিহীন প্রকল্পঃ যোগ্যতা, সুবিধা ও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা
সমাজের আর্থিকভাবে দুর্বল ও সম্পূর্ণ ভূমিহীন পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে রাজ্য সরকার বিভিন্ন সময়ে একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করেছে। তার মধ্যেই অন্যতম হলো ভূমিহীন প্রকল্প। Government of West Bengal–এর উদ্যোগে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো যেসব পরিবার নিজস্ব চাষযোগ্য জমি থেকে বঞ্চিত, তাদের আইনসম্মতভাবে ভাতা প্রদান করে।

গ্রামাঞ্চলে বহু মানুষের নিজস্ব কোন জমি নেই, যারা একদম নিম্নবিত্ত পরিবারের আওতায় পরেন, যারা অন্যের জমি এবং বিভিন্ন জায়জায় খেত মজুর করে কোনো রকম ভাবে জীবন যাপন করছেন তাদের জন্য রাজ্য সরকার নিয়ে হাজির হয়েছে একটি দুর্দান্ত প্রকল্প নিয়ে।

এই পোস্টে আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবো—
🔹 ভূমিহীন প্রকল্পের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট
🔹 কারা এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য এবং কারা অযোগ্য
🔹 কী কী সরকারি সুবিধা ও আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায়
🔹 আবেদন করার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
🔹 আবেদন করার সময় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা ও সতর্কতা

যারা ভূমিহীন অবস্থায় আছেন বা পরিবারের কারও জন্য এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে চান, তাদের জন্য এই তথ্যগুলি অত্যন্ত কার্যকর হবে। সঠিক তথ্য জানা থাকলে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা এড়ানো সম্ভব হবে। তাই সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ে নিন এবং প্রয়োজনে অন্যদের সঙ্গেও শেয়ার করুন।

ভূমিহীন প্রকল্পের বিষয়বস্তু ঃ 
পশ্চিমবঙ্গ কৃষি উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় রাজ্য এবং রাজ্যের অর্থনীতিতে কৃষির অবদান প্রভুত এবং ক্ষেতমজুরেরা রাজ্যের কৃষিক্ষেত্রের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনেক সময় তাদের জীবিকা কৃষি ও আনুসাঙ্গিক কর্মকাণ্ডের উপর নির্ভরশীল। তাই রাজ্য সরকার কৃষি ক্ষেত মজুরদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়াকে জোর দিতে চেয়েছে এই বছর থেকে। তাদের জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার একটি নতুন প্রকল্প শুরু করেছে ২০২৬-২৭ সালের বাজেট অনুযায়ী। এই প্রকল্পের মাধ্যমে এই ধরনের ক্ষেতমজুরদের কে ৪,০০০/- টাকা বার্ষিক সহায়িতা প্রদানের ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রকল্পের বৈশিষ্ট্য ঃ 
এই প্রকল্পের অধীনে, ক্ষেত মজুরেরা প্রাথমিকভাবে যারা জীবিকা নির্বাহের জন্য কৃষি এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের কার্যকলাপের উপর নির্ভরশীল, তাদের ব্যাঙ্কে সরাসরি ৪,০০০/- টাকা বার্ষিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। এই অর্থ একবার রবি ফসলের মরশুমে এবং আরেকবার খারিফ ফসলের মরশুমে ২,০০০/- করে দুটি সমান কিস্তিতে প্রদান করা হবে।

যোগ্যতা ঃ 
এই প্রকল্পে আবেদনের জন্য পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। যাদের কোন কৃষি জমি নেই এবং কৃষকবন্ধু প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত নন এর পাশাপাশি বর্গাচাষি হিসাবে নথিভুক্ত নন। যারা জীবিকা নির্বাহের জন্য সম্পূর্ণ ভাবে অন্যের জমির উপর কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল। 

আবেদন পদ্ধতি ঃ 
আবেদন কারীকে আবেদন করতে হলে নিজ নিজ BDO অফিসে অফলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। 

আবেদনপত্র পূরণের নিয়ম ঃ
এই প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত আবেদন ফর্মটি তিনটি আলাদা পাতায় বিভক্ত। প্রতিটি অংশ সঠিকভাবে পূরণ করা অত্যন্ত জরুরি। আমরা নীচে পাতা অনুযায়ী নির্দেশিকা গুলি খুব সহজ এবং সুন্দর ভাবে তুলে ধরলাম- 

প্রথম পাতা ঃ 
ভূমিহীন প্রকল্প: প্রথম পাতা
ভূমিহীন প্রকল্প: প্রথম পাতা

০১. ব্যক্তিগত তথ্য (Personal Details)
  • নাম (বড় হাতের অক্ষরে)
  • সম্পূর্ণ ঠিকানা
  • গ্রাম
  • গ্রাম পঞ্চায়েত
  • পোস্ট অফিস
  • ব্লক
  • থানার নাম
  • জেলা
  • পিন কোড

০২. পারিবারিক তথ্য
  • পিতা/স্বামীর নাম
  • জন্ম তারিখ
  • বয়স (১/৪/২০২৬ অনুযায়ী)
  • লিঙ্গ (Male/Female/Others)
  • জাতিগত শ্রেণি (General/SC/ST/OBC) যদি থাকে

০৩. যোগাযোগ ও পরিচয়পত্র
  • মোবাইল নম্বর (ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে যুক্ত)
  • আধার কার্ড নম্বর (অবশ্যই দিতে হবে)
  • ভোটার কার্ড নম্বর (ঐচ্ছিক)

০৪. ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য
  • ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নাম
  • অ্যাকাউন্ট নম্বর
  • IFSC কোড
  • ব্যাংকের নাম ও শাখা
  • অ্যাকাউন্টের ধরন (Savings/Current)
  • ব্যাংক ডকুমেন্ট সংযুক্ত করতে হবে (পাসবুকের ফটোকপি বা ক্যান্সেল চেক)

০৫. নমিনি সংক্রান্ত তথ্য
  • নমিনির নাম
  • আবেদনকারীর সাথে সম্পর্ক
  • নমিনির পিতা/স্বামীর নাম
  • জন্ম তারিখ ও বয়স
  • (যদি ১৮ বছরের কম হয়) অভিভাবকের নাম

০৬. ঘোষণা ও স্বাক্ষর
  • আবেদনকারীকে ঘোষণা দিতে হবে যে তিনি অন্য কোথাও এই প্রকল্পে আবেদন করেননি
  • তারিখ লিখতে হবে
  • আবেদনকারীর স্বাক্ষর বা টিপসই দিতে হবে
  • সবশেষে একটি Acknowledgement Receipt (রসিদ অংশ) আছে, যা অফিস ব্যবহারের জন্য।

দ্বিতীয় পাতা ঃ Self Declaration Form
ভূমিহীন প্রকল্প: দ্বিতীয় পাতা
ভূমিহীন প্রকল্প: দ্বিতীয় পাতা 

০১. ব্যক্তিগত তথ্য
  • আবেদনকারীর নাম
  • পিতা/স্বামী/স্ত্রীর নাম
  • গ্রাম
  • গ্রাম পঞ্চায়েত / মিউনিসিপ্যালিটি
  • ব্লক
  • থানার নাম
  • জেলা

০২. গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা (Declaration অংশ)
আবেদনকারীকে লিখিতভাবে ঘোষণা করতে হবে যে—
✔️ তিনি কোনো চাষযোগ্য জমির মালিক নন
✔️ তিনি ভাগচাষী (Sharecropper) হিসেবে নথিভুক্ত নন
✔️ জীবিকা নির্বাহের জন্য অন্যের জমিতে কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করেন
✔️ অন্য কোথাও এই প্রকল্পে আবেদন করেননি
✔️ প্রদত্ত সব তথ্য সত্য
✔️ ভবিষ্যতে তথ্য ভুল প্রমাণিত হলে সরকার সুবিধা বাতিল করতে পারে এবং প্রাপ্ত অর্থ ফেরত দিতে হবে

০৩. বর্তমানে যে সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগী (যদি হন)
  • সঠিক ঘরে (✔️) চিহ্ন দিতে হবে—
  • কৃষক বন্ধু (নতুন)
  • লক্ষ্মীর ভান্ডার
  • অন্যান্য (উল্লেখ করতে হবে)

০৪. শেষ অংশে যা দিতে হবে
  • স্থান (Place)
  • তারিখ (Date)
  • আবেদনকারীর স্বাক্ষর / টিপসই
  • আবেদনকারীর মোবাইল নম্বর

০৫. গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
  • এটি একটি স্বঘোষণাপত্র, তাই ভুল তথ্য দিলে আইনি ব্যবস্থা হতে পারে।
  • সব তথ্য পরিষ্কার ও সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।
  • স্বাক্ষর বা টিপসই না দিলে ফর্ম গ্রহণযোগ্য হবে না।

তৃতীয় পাতা ঃ
ভূমিহীন প্রকল্প: তৃতীয় পাতা
ভূমিহীন প্রকল্প: তৃতীয় পাতা 

০১. ফর্মের উদ্দেশ্য
এই ফর্মের মাধ্যমে আবেদনকারী—
  • নিজের আধার তথ্য ব্যবহার করার অনুমতি দেন
  • আধার-ভিত্তিক যাচাইকরণ (Authentication) করতে সম্মতি দেন
  • আধার নম্বর প্রকল্পের সাথে যুক্ত (Seeding) করতে রাজি হন

০২. যে তথ্যগুলো পূরণ করতে হবে
  • আবেদনকারীর নাম (উপভোক্তার নাম)
  • পিতা/স্বামী/স্ত্রীর নাম
  • গ্রাম / মৌজা
  • গ্রাম পঞ্চায়েত (GP)
  • ব্লক
  • জেলা

০৩. ঘোষণা অংশে যা বলা আছে

আবেদনকারী ঘোষণা করেন যে—

✔️ আধার ভিত্তিক যাচাইকরণে তাঁর কোনো আপত্তি নেই
✔️ সরকার প্রকল্পের কাজের জন্য তাঁর আধার তথ্য ব্যবহার করতে পারে
✔️ তিনি স্বেচ্ছায় সম্মতি দিচ্ছেন

০৪. আধার সংক্রান্ত তথ্যের টেবিল
নিচের তথ্যগুলো লিখতে হবে—
  • আধার নম্বর
  • আধারের সাথে যুক্ত মোবাইল নম্বর
  • ভোটার কার্ড (EPIC) নম্বর

০৫. শেষে যা দিতে হবে
  • স্থান (Place)
  • তারিখ (Date)
  • আবেদনকারীর স্বাক্ষর / টিপসই

০৬. গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ
  • আধার নম্বর সঠিকভাবে লিখতে হবে
  • মোবাইল নম্বর অবশ্যই আধারের সাথে যুক্ত থাকতে হবে
  • স্বাক্ষর ছাড়া ফর্ম গ্রহণযোগ্য নয়
  • কপিতে নিজে সই করে জমা দিতে হবে

প্রয়োজনীয় নথিগুলো ঃ 

নিচের প্রতিটি ডকুমেন্টের ফটোকপি প্রয়োজন

☐ ভোটার আইডি কার্ড
☐ আধার কার্ড
☐ ব্যাংক পাসবুকের প্রথম পৃষ্ঠা / ক্যান্সেল চেক
☐ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে সংযুক্ত মোবাইল নম্বর
☐ Self-Declaration (সংযোজনীসহ স্বঘোষণাপত্র)
☐ আধার তথ্য ব্যবহারের সম্মতিপত্র (Consent Letter)
☐ পাসপোর্ট সাইজ ছবি

Official Application Form Download Now

No comments:

Post a Comment